ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেল থেকে জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ পূজা চেরির বাবার বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০৪:০৭:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০৪:০৭:২০ অপরাহ্ন
জেল থেকে জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ পূজা চেরির বাবার বিরুদ্ধে


নিজস্ব প্রতিবেদক

চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে মিজানুর রহমানের পশ্চিম মাটিকাটার বাসায় দেব প্রসাদ রায়সহ আরও তিনজন যান। সেখানে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চলমান মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন জানান মিজানুর রহমান।

ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা ওই জিডির ট্র্যাকিং নম্বর ২৫৫৮ এবং জিডি নম্বর ১৬৪০। এর তারিখ ২৬ জুলাই ২০২৬। জিডিতে দেব প্রসাদ রায়ের সঙ্গে মদন কুমার সাহা, পূজা চেরি রায় এবং পার্থ প্রতীম নামের আরও তিনজনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মিজানুর রহমান অভিযোগ করেছেন, তারা তার বাসায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলা নম্বর-০১, তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০২৬-এ অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। জিডি করার সময় তিনি আদালত থেকে জামিনে ছিলেন বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন।

এর আগে চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা করা হয় এবং ওই দিনই দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মাটিকাটার একটি বাসায় গিয়ে দেব প্রসাদ রায় মিজানুর রহমানের কাছ থেকে নগদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা নেন। একই ব্যবসার কথা বলে পরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর/সম্পাদনের মাধ্যমে আরও ৬ কোটি টাকা নগদ নেওয়ার অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান। বিভিন্ন সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের একাধিক নম্বরে আরও মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ অভিযুক্তের অনুরোধে বিকাশের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা পাঠানোর দাবি করা হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও দেব প্রসাদ রায় কোনো টাকা ফেরত দেননি। টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা এবং পরে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এভাবে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

১৭ এপ্রিল রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরে টাকার বিষয়ে দেব প্রসাদ রায়ের কাছে জানতে চান মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি এবং একপর্যায়ে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা দৈপায়ন মণ্ডল প্রকাশিত সংবাদে জানিয়েছিলেন, চলচ্চিত্র বানানোর কথা বলে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ১২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন; লেনদেনের স্টেটমেন্ট যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছিল।

এদিকে দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে পূজা চেরি প্রকাশিত বক্তব্যে বলেন, অভিযোগ বা মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আদালত বিষয়টি দেখবেন ও সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তাকে এ বিষয়ে না জড়ানোর অনুরোধ করেন অভিনেত্রী।

দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এর মধ্যে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ পরিচালক-প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল জানান দেব প্রসাদ রায়ের অতীত নিয়েও অভিযোগের প্রসঙ্গ আসে। বিএফডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, দেব প্রসাদ রায় এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তিনি সম্ভবত আদম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, পূজা চেরির বয়স যখন প্রায় ৪-৫ বছর, তখন এ কারণে তার বাবা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন।

মোহাম্মদ ইকবাল আরও দাবি করেন, দেব প্রসাদ রায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পূজার মা আলাদা হয়ে যান এবং মেয়েকে অনেক কষ্টে বড় করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূজার মা টেইলার্সের দোকান চালাতেন এবং তার বাসার পাশের একটি ছোট টেইলার্সের দোকানে কাপড় সেলাই করতেন। সেখানেই পূজা চেরি ছোটবেলায় বড় হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। 

বর্তমান ঘটনায় মিজানুর রহমানের করা ২৬ জুলাইয়ের জিডিতে মূল অভিযোগ হলো—চলমান অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালত থেকে জামিনে বের হওয়ার পর দেব প্রসাদ রায়সহ চারজন তার বাসায় গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ, গালিগালাজ, ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। জিডিতে তিনি বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণের আবেদন জানিয়েছেন।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ